Wellcome to National Portal
Text size A A A
Color C C C C

সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২২nd জানুয়ারি ২০২৪

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের জীবনবৃত্তান্ত

Abdur%20Rahman%20MP

মো. আব্দুর রহমান

মাননীয় মন্ত্রী

উপমহাদেশে অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর অন্যতম সদস্য জনাব মো. আব্দুর রহমান ১৯৫৪ সালের ৯ মার্চ ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামালদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. শরিয়তউল্যা ও মাতা আয়েশা শরিয়তউল্যা। তার সহধর্মিনী একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক। আদর্শবাদী এ রাজনীতিবিদ ব্যক্তিজীবনে চার সন্তানের গর্বিত জনক।

কৈশোর বয়সেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া মো. আব্দুর রহমান দশম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় সহপাঠীদের নিয়ে ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা হত্যাকান্ডের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত মিছিলে যোগ দেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন মানসিকতা আর প্রতিবাদী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাকে ক্রমেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করে। তিনি ফরিদপুরের খরসূতী চন্দ্র কিশোর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য যুবকদের সংঘবদ্ধ করেন এবং ভারতের রানাঘাট ক্যাম্পে ট্রেনিং শেষ করে দেশে ফিরে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন জনাব আব্দুর রহমান।

অসাধারণ নেতৃত্বগুণের অধিকারী জনাব আব্দুর রহমান বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে নানা পদ অলংকৃত করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেজ ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৪ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায়, ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফরিদপুর জেলা শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর তিনি প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ আন্দোলন ও সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন এবং দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। মেধাবী ছাত্র নেতা জনাব আব্দুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলতার সাথে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে এল.এল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরপরই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। ১৯৮১ সালে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন আব্দুর রহমান মূলত তাঁকে ঘিরেই তাঁর নেতৃত্বের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশ করেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা বিভিন্ন সময়ে আব্দুর রহমানকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সে দায়িত্বটুকু তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ১৯৮৪ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। ছাত্রসমাজের কাছে তুমুল জনপ্রিয় একজন নেতা হয়ে ওঠা জনাব আব্দুর রহমানকে ১৯৮৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ মেয়াদে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেন। সে সময় মেধাবী এই ছাত্রনেতা সফলভাবে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী গণ-আন্দোলন গড়ে তোলেন। ২০০১-০২ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্বেক্ষক সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৭তম সম্মেলনে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান এবং ২০০২-০৯ মেয়াদে এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীক নিয়ে ফরিদপুর-০১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জনাব আব্দুর রহমান। পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৯তম সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হন তিনি। ২০০৯-১২ মেয়াদে তিনি এ দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২য় বারের তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন জনাব আব্দুর রহমান। ২০১৬-১৯ মেয়াদে এ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করেন তিনি। প্রাজ্ঞ রাজনীতিক জনাব আব্দুর রহমান ২০১৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পরীক্ষিত, ত্যাগী, কর্তব্যনিষ্ঠ ও বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ জনাব মো. আব্দুর রহমান ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা) সংসদীয় আসন থেকে তৃতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

গত ১০ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশর মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুর রহমানকে মন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দান করেন। পরে গত ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের টানা চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মো. আব্দুর রহমানকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রদান করেন। ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে তিনি মন্ত্রণালয়ে যোগদান করে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মন্ত্রণালয়ে যোগ দিয়ে তিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একইদিন তিনি দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে প্রাণিজ আমিষ সহজলভ্য করার পরিকল্পনার কথা জানান। একইসাথে মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তর-সংস্থাকে আরও উন্নততর জায়গার নিয়ে যাওয়া এবং এসব প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা জানান।