মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৯ নভেম্বর ২০২১

চট্টগ্রাম বিভাগে প্রডিউসার গ্রুপ গঠন ও সংহতকরণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত


প্রকাশন তারিখ : 2021-11-28

চট্টগ্রাম বিভাগে প্রডিউসার গ্রুপ গঠন ও সংহতকরণ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

“প্রডিউসার গ্রুপ গঠন ও সংহতকরণ” বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে ২৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখে চট্টগ্রাম ভেটেরেনারি ও এ্যানিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে দিনব্যাপী এ বিভাগীয় কর্মশালা আয়োজন করে।

 

 

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার জনাব মো: কামরুল হাসান, এনডিসি এবং বাংলাদেশে খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জনাব বখহোদুর ইসোনভ। সভাপতিত্ত¡ করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মানিত মহাপরিচালক ডাঃ মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা।

 

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন জনাব মো: আব্দুর রহিম, প্রকল্প পরিচালক, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প এবং যুগ্ম সচিব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদান) ডাঃ মোহাম্মদ রেয়াজুল হক এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান।

 

প্রাণিসম্পদ খাতের চট্টগ্রাম বিভাগের মোট প্রায় ১০০ জন বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং সমপর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মশালায় যোগ দেন। এছাড়া ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগে নিয়োজিত এলডিডিপি’র প্রায় ৫০ জন প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা যুক্ত হন।

 

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী বলেন, দেশে প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও এর অধীনে বাস্তবায়নাধীণ এলডিডিপি প্রকল্প নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে খামার ব্যবস্থাপনা, পশুখাদ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য, মান নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আরো অনেক পথ যেতে হবে আমাদের। নিরাপদ দুধ সংগ্রহ ও পরিবহন পদ্ধতি, যথাযথভাবে পশু জবাই, ডিমের মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ব্যবহার, পশুখাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা ইত্যাদি বিষয়ের উপরেও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পশু শুমারীর কাজ ত্বরান্বিত করার উপরেও বিশেষ জোর দেন।

 

 

সভাপতির বক্তৃতায় ডাঃ মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদা বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের কঠিন সময়টাতে সারা বাংলাদেশ যখন ঘুমিয়ে ছিল, তখনও আমরা জেগে ছিলাম। খামারিদের পাশে ছিলাম, দেশবাসীর পাশে ছিলাম। আপনারা যাাঁরা মাঠ পর্যায়ে কর্মরত আছেন তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রম, সৎসাহস আর মানবতা বোধের কারণে সেটা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে আমরা আগামী দিনগুলোতেও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে একযোগে কাজ করে যাবো, ইনশাল্লাহ। আর তাহলেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিনত হওয়া সহজতর হবে।

 

কর্মশালায় প্রকল্পের কার্যক্রম, এফএও প্রদত্ত প্রযুক্তিগত সেবার অগ্রগতি এবং খামারিদের নিয়ে প্রডিউসার গ্রুপ গঠন ও সংহতকরণ বিষয়ের উপর তিনটি প্রেজেন্টেশন তুলে ধরা হয়। এলডিডিপির চীফ টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর ড. মো: গোলাম রাব্বানী, এফএও-এর টিম লিডার ড. জুলিয়াস মুচিমি এবং এফএও-এর ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ড. খান শহিদুল হক যথাক্রমে প্রেজেন্টেশন তিনটি উপস্থাপন করেন।

 

কর্মশালায় বক্তারা আরো বলেন, এলডিডিপি’র মাধ্যমে দেশের ৬১টি জেলার ৪৬৫টি উপজেলায় প্রান্তিক খামারিদের নিয়ে প্রাণিসম্পদ উৎপাদনকারী দল গঠন করা হচ্ছে। সমবায়ের ভিত্তিতে গঠিত প্রতিটি দলে থাকবে ২০ থেকে ৪০ জন প্রান্তিক খামারি, যাদের একটি বড় অংশ আসবে নারীদের মধ্য থেকে। এই দলগুলোই হবে দেশব্যাপী প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের মূল কারিগর।

 

প্রান্তিক খামারিদের নিয়ে প্রোডিউসার গ্রুপ গঠনের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া, এর ক্যারেকটারাইজেশন, মোবিলাইজেশন এবং কাক্সিক্ষত ফলাফল বিষয়েও কর্মশালায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশ্ন-উত্তরের মধ্য দিয়ে মাঠ পর্যায়ে গ্রুপ গঠনের সুবিধা, অসুবিধা ও অগ্রগতির চিত্র উঠে আসে যা এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইন প্রণয়ন এবং প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে বিশেষ সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
    


Share with :

Facebook Facebook